নতুন জন্ম নিবন্ধন
? নবজাতকের জন্ম নিবন্ধন কত দিনের মধ্যে করতে হয়?
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে হলে ২৫ টাকা ফি প্রযোজ্য। ৫ বছরের পর হলে ৫০ টাকা এবং অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়।
? জন্ম নিবন্ধনের জন্য কোন অফিসে যেতে হবে?
বাসস্থানের ধরন অনুযায়ী:
  • গ্রামাঞ্চলে: স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়
  • পৌর এলাকায়: পৌরসভা কার্যালয়
  • সিটি কর্পোরেশনে: সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়
  • ক্যান্টনমেন্টে: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কার্যালয়
? নবজাতকের জন্ম নিবন্ধনে কী কী কাগজপত্র লাগে?
মূল কাগজপত্র:
  • হাসপাতাল বা ক্লিনিকের জন্ম সনদ (EPI কার্ড)
  • পিতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • পিতামাতার বিবাহ সনদ (বিকল্প: কাবিননামা)
  • শিশুর পাসপোর্ট সাইজ ছবি (২ কপি)
পিতামাতার NID না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্ট ব্যবহার করা যায়।
? হাসপাতালে না হয়ে বাড়িতে জন্ম হলে কী করব?
হাসপাতালের জন্ম সনদের বিকল্প হিসেবে নিচের যেকোনো একটি ব্যবহার করা যায়:
  • ধাত্রী বা দাই মার স্বাক্ষরিত প্রমাণপত্র
  • স্থানীয় চেয়ারম্যান / ওয়ার্ড কমিশনারের প্রত্যয়নপত্র
  • পিতামাতার হলফনামা (এফিডেভিট)
  • ইপিআই (EPI) টিকা কার্ড
অনলাইন আবেদন
? অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন কীভাবে করব?
অনলাইনে আবেদনের জন্য bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে যান। "জন্ম নিবন্ধন আবেদন" বিকল্পটি নির্বাচন করে ফর্ম পূরণ করুন। সকল তথ্য বাংলায় পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। আবেদন জমার পর সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
? অনলাইন আবেদনের পর কত দিনে সনদ পাব?
আবেদন জমার পর সাধারণত ৩ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ পাওয়া যায়। তবে কাগজপত্রে ত্রুটি বা অফিসের কাজের চাপ থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে। অনলাইনে আবেদন নম্বর দিয়ে আবেদনের অবস্থা ট্র্যাক করা যায়।
? আবেদন করার পর কীভাবে স্ট্যাটাস চেক করব?
bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে "আবেদন অনুসন্ধান" বিভাগে গিয়ে আবেদন নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে সার্চ করলে আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানা যাবে। আবেদন নম্বরটি আবেদন জমার সময় দেওয়া হয়।
সংশোধন
? জন্ম নিবন্ধনে নাম বা তারিখ ভুল হলে কীভাবে সংশোধন করব?
সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
  • সংশোধন আবেদন ফর্ম (অফিস থেকে সংগ্রহ)
  • মূল জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • সঠিক তথ্যের প্রমাণ (স্কুল সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, ইত্যাদি)
  • আবেদনকারীর NID
সংশোধন ফি: ১০০ টাকা। উচ্চতর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগলে সময় বেশি লাগতে পারে।
? পিতামাতার নাম সংশোধন করতে কী লাগে?
পিতামাতার নাম সংশোধন একটু জটিল। প্রয়োজনীয় কাগজ:
  • পিতামাতার NID কার্ড (সংশোধিত নাম অনুযায়ী)
  • বিবাহ সনদ (কাবিননামা)
  • স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর/চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র
  • প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমোদন
? সংশোধনে কত সময় লাগে?
সাধারণ সংশোধন (বানান ভুল, ছোটখাট তথ্য): ১৫–৩০ কার্যদিবস
জটিল সংশোধন (জন্মতারিখ পরিবর্তন, পিতামাতার নাম): ৩০–৯০ দিন

জেলা রেজিস্ট্রারের অনুমোদন প্রয়োজন হলে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
ডিজিটাল কপি
? ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ কোথা থেকে পাব?
bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ দিলে ডিজিটাল কপি প্রিন্ট বা ডাউনলোড করা যায়। নিবন্ধন ১৭ ডিজিটের হলেই ডিজিটাল কপি পাওয়া যাবে।
? ডিজিটাল কপি কি সর্বত্র গ্রহণযোগ্য?
হ্যাঁ, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কপি গ্রহণযোগ্য। তবে কিছু ক্ষেত্রে সত্যায়িত কপি চাওয়া হতে পারে:
  • পাসপোর্টের জন্য: ডিজিটাল কপি গ্রহণযোগ্য
  • NID আবেদনে: ডিজিটাল কপি গ্রহণযোগ্য
  • বিদেশী দূতাবাসে: সত্যায়িত কপি প্রয়োজন হতে পারে
  • বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে: ডিজিটাল কপি গ্রহণযোগ্য
? QR কোড দিয়ে কীভাবে যাচাই করব?
ডিজিটাল সনদে একটি QR কোড থাকে। যেকোনো স্মার্টফোনের ক্যামেরা বা QR স্ক্যানার অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলে সরাসরি BDRIS ওয়েবসাইটে সেই ব্যক্তির তথ্য দেখা যাবে। এটি সনদের সত্যতা যাচাইয়ের সবচেয়ে দ্রুত পদ্ধতি।
দেরিতে জন্ম নিবন্ধন
? প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে জন্ম নিবন্ধন কীভাবে করব?
প্রাপ্তবয়স্কদের (১৮+ বছর) জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন:
  • হলফনামা (এফিডেভিট) — নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে
  • শিক্ষাগত সনদ (SSC/JSC সার্টিফিকেট)
  • হাসপাতালের পুরনো রেকর্ড (পাওয়া গেলে)
  • স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র
ফি: ৫০ টাকা (সরকারি)
? জন্ম নিবন্ধন না থাকলে কি NID পাব না?
জন্ম নিবন্ধন না থাকলেও NID আবেদন করা যায়। তবে জন্ম নিবন্ধন থাকলে প্রক্রিয়া সহজ হয়। NID আবেদনে বিকল্প হিসেবে শিক্ষাগত সনদ বা পাসপোর্ট ব্যবহার করা যায়। তবে সন্তানের NID আবেদনের জন্য পিতামাতার জন্ম নিবন্ধন বা NID বাধ্যতামূলক।
? বিদেশে জন্ম হলে বাংলাদেশে কীভাবে নিবন্ধন করব?
বিদেশে জন্মের ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি:
  • বিদেশেই: নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস/কনস্যুলেটে আবেদন করা যায়। বিদেশের জন্ম সনদ (সত্যায়িত) ও পিতামাতার পাসপোর্ট প্রয়োজন।
  • দেশে ফিরে: স্থায়ী ঠিকানার ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করা যায়। বিদেশের জন্ম সনদের সত্যায়িত অনুবাদ সহ।
মৃত্যু নিবন্ধন
? মৃত্যু নিবন্ধন কীভাবে করব?
মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভায় নিবন্ধন করতে হয়। বিনামূল্যে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
  • মৃত্যু সনদ (হাসপাতাল বা ডাক্তার কর্তৃক)
  • মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ বা NID
  • আবেদনকারীর NID ও মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কের প্রমাণ
? মৃত্যু নিবন্ধন কেন দরকার?
মৃত্যু নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা:
  • সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিষ্পত্তি
  • মৃত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনা
  • বীমার দাবি উত্থাপন
  • পেনশন সুবিধা পরিবর্তন
  • বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন (বিধবা/বিধুর)
  • NID ভোটার তালিকা আপডেট
? অনেক আগে মারা গেলে কীভাবে মৃত্যু নিবন্ধন করব?
দেরিতে মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন:
  • স্থানীয় কাউন্সিলর/চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র
  • হলফনামা (নোটারিকৃত)
  • মৃত্যুর প্রমাণ (হাসপাতাল রেকর্ড, কবরের দলিল, ইত্যাদি)
ফি: ৫০ টাকা (দেরিতে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে)
বিবিধ প্রশ্ন
? পুরানো ১৬ ডিজিটের নিবন্ধন কি এখনও কার্যকর?
পুরানো ১৬ ডিজিটের নিবন্ধন নম্বর এখনও কার্যকর। তবে নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে এটি ১৭ ডিজিটে রূপান্তর করা হয়েছে। পুরানো নম্বরের আগে একটি "০" যোগ করলে নতুন নম্বর পাওয়া যায়। BDRIS পোর্টালে উভয় নম্বর দিয়ে খোঁজা যায়।
? জন্ম নিবন্ধন সনদ হারিয়ে গেলে কী করব?
সনদ হারালে ঘাবড়ানোর কিছু নেই:
  • BDRIS পোর্টাল থেকে ডিজিটাল কপি প্রিন্ট করুন (বিনামূল্যে)
  • সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নকল কপি সংগ্রহ করুন
  • GD (General Diary) করার প্রয়োজন নেই সাধারণত
? একই ব্যক্তির দুটো নিবন্ধন থাকলে কী করব?
এটি একটি আইনি সমস্যা। যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করুন:
  • সঠিক তথ্যওয়ালা নিবন্ধনটি রাখুন
  • ভুল/ডুপ্লিকেট নিবন্ধন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করুন
  • উভয় নিবন্ধনের কপি ও প্রমাণাদি সাথে নিন
দুটো নিবন্ধন থাকলে পাসপোর্ট বা NID আবেদনে সমস্যা হয়।