জন্ম নিবন্ধন সেবা

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পদ্ধতি ২০২৬

bdris.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করুন। এই গাইডে রয়েছে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া।

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০২৬
পড়তে সময় লাগবে: ৫ মিনিট
নবজাতক থেকে সকল বয়সের জন্য

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের সুবিধা

ঘরে বসে আবেদন: ইউনিয়ন পরিষদে না গিয়েও অনলাইনে আবেদন করা যায়, সময় ও যাতায়াত খরচ বাঁচে।

দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ: অনলাইনে আবেদন করলে সাধারণত অফলাইনের চেয়ে দ্রুত সনদ পাওয়া যায়।

ডিজিটাল সনদ ডাউনলোড: অনুমোদনের পর সরাসরি পোর্টাল থেকে সনদ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করা যায়।

আবেদনের অবস্থা ট্র্যাক: আবেদন নম্বর দিয়ে যেকোনো সময় আবেদনের স্ট্যাটাস দেখা যায়।

তথ্য সুরক্ষিত: সরকারি পোর্টালে আবেদন করলে আপনার তথ্য সুরক্ষিত থাকে এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি কমে।

কোন ওয়েবসাইটে আবেদন করবেন

জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল হলো bdris.gov.bd (Birth and Death Registration Information System)। তৃতীয় পক্ষের কোনো ওয়েবসাইটে আবেদন করবেন না।

অনলাইন আবেদন পোর্টাল bdris.gov.bd — সরকারি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সিস্টেম
সার্ভার অ্যাক্সেস যাচাই ".gov.bd" ডোমেইন নিশ্চিত করুন — এটি সরকারি সার্ভারের প্রমাণ

ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া

১

bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

যেকোনো ব্রাউজার থেকে bdris.gov.bd খুলুন। হোমপেজে "জন্ম নিবন্ধনের আবেদন" বা "Apply for Birth Registration" বাটনে ক্লিক করুন।

২

নিবন্ধনের ধরন নির্বাচন করুন

জন্মের তারিখ অনুযায়ী আবেদনের ধরন বেছে নিন। ৪৫ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে, ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে ৫০ টাকা ফি প্রযোজ্য।

বাচ্চার বয়স ভালোভাবে নিশ্চিত করুন
৩

ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন

শিশুর নাম (বাংলা ও ইংরেজি), জন্ম তারিখ, জন্মস্থান, লিঙ্গ, বাবা-মার নাম, NID নম্বর, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করুন।

৪

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন

হাসপাতালের ছাড়পত্র, বাবা-মার NID কার্ড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি বা স্পষ্ট ছবি আপলোড করুন।

ফাইলের সাইজ সর্বোচ্চ ২ MB হতে হবে (JPEG/PDF)
৫

নিবন্ধক অফিস নির্বাচন করুন

আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড নির্বাচন করুন।

৬

তথ্য যাচাই ও সাবমিট করুন

সকল তথ্য ভালোভাবে পুনরায় পড়ুন। কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করুন। সব ঠিক থাকলে "সাবমিট" বাটনে ক্লিক করুন।

৭

আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন

সাবমিট করার পর একটি আবেদন নম্বর (Application Number) পাবেন। এটি অবশ্যই লিখে রাখুন বা স্ক্রিনশট নিন — পরবর্তীতে স্ট্যাটাস চেক করতে কাজে লাগবে।

৮

অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন

নিবন্ধক অফিস আবেদন যাচাই করবে। সাধারণত ৩–৭ কার্যদিবসের মধ্যে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের এসএমএস/নোটিফিকেশন পাবেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

হাসপাতালের ছাড়পত্র (Discharge Certificate) জন্মের সময় হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে প্রদত্ত ডিসচার্জ সার্টিফিকেট
বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বাবার NID কার্ডের উভয় পাশের ছবি বা স্ক্যান কপি
মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) মায়ের NID কার্ডের উভয় পাশের ছবি বা স্ক্যান কপি
বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স/ইউটিলিটি বিল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ঠিকানা প্রমাণের জন্য বিদ্যুৎ বা পানির বিলের কপি
ইপিআই কার্ড (টিকা কার্ড) — প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিশুর টিকার কার্ড থাকলে সংযুক্ত করা ভালো
বড়দের ক্ষেত্রে: স্কুল সার্টিফিকেট/SSC সনদ আগে নিবন্ধিত না হলে পড়াশোনার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করার উপায়

১

bdris.gov.bd তে প্রবেশ করুন এবং "সনদ যাচাই ও ডাউনলোড" বিভাগে যান।

২

আবেদন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করুন।

৩

আবেদনের স্ট্যাটাস "অনুমোদিত" (Approved) থাকলে সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন।

৪

"ডাউনলোড সনদ" বাটনে ক্লিক করুন। PDF ফরম্যাটে সনদ সেভ হবে।

৫

প্রিন্ট করুন এবং প্রয়োজনে স্থানীয় নিবন্ধক অফিস থেকে কাগুজে কপি সংগ্রহ করুন।

গুরুত্বপূর্ণ: ডাউনলোড করা ডিজিটাল সনদে QR কোড থাকে যা যাচাইযোগ্য। এটি কাগুজে সনদের সমান গ্রহণযোগ্য।

অফলাইন আবেদন (ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশন)

ইন্টারনেট সুবিধা না থাকলে বা অনলাইনে সমস্যা হলে সরাসরি অফিসে গিয়েও আবেদন করা যায়।

এলাকা আবেদনের স্থান যোগাযোগ
গ্রামাঞ্চল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চেয়ারম্যান বা সচিবের সাথে যোগাযোগ
পৌর এলাকা পৌরসভা অফিস জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন শাখা
সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিস
ক্যান্টনমেন্ট ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস সংশ্লিষ্ট কার্যালয়

ফি ও সময়

নিবন্ধনের সময়কালফিপ্রক্রিয়াকরণ সময়
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেবিনামূল্যে৩–৫ কার্যদিবস
৪৫ দিন থেকে ৫ বছর৫০ টাকা৫–৭ কার্যদিবস
৫ বছরের বেশি বয়স১০০ টাকা৭–১৫ কার্যদিবস
সংশোধন আবেদন৫০–১০০ টাকা৭–১৪ কার্যদিবস

* জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে। ফি অফিসের নির্ধারিত বুথে বা অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

জন্ম নিবন্ধন না থাকলে কী সমস্যা হয়?
জন্ম নিবন্ধন না থাকলে পাসপোর্ট, NID কার্ড, ভর্তি পরীক্ষা, চাকরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ প্রায় সব সরকারি সেবা পেতে সমস্যা হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে ভর্তি ও বৃত্তির জন্যও জন্ম নিবন্ধন আবশ্যক।
আবেদন করার কতদিন পর সনদ পাওয়া যায়?
সাধারণত অনলাইনে আবেদনের ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে অনুমোদন হয়। তবে তথ্যে ত্রুটি থাকলে বা অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হলে বেশি সময় লাগতে পারে। অফলাইনে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবস পর্যন্ত লাগতে পারে।
বাইরে জন্ম নেওয়া শিশুর (বিদেশে) নিবন্ধন কীভাবে হবে?
বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে আবেদন করতে হবে। দেশে ফেরার পরও bdris.gov.bd এ নিবন্ধন করা যাবে।
একই ব্যক্তির দুইটি জন্ম নিবন্ধন থাকলে কী করবেন?
ডুপ্লিকেট নিবন্ধন একটি আইনি সমস্যা। যে নিবন্ধনটি সঠিক তথ্যসহ করা হয়েছে সেটি রেখে অন্যটি বাতিলের জন্য স্থানীয় নিবন্ধক অফিসে আবেদন করুন। প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিন।
অনলাইন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কী করবেন?
প্রত্যাখ্যানের কারণ এসএমএস বা পোর্টালে জানানো হবে। উল্লিখিত কারণ সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করুন। বারবার প্রত্যাখ্যান হলে সরাসরি উপজেলা নিবন্ধক অফিসে যোগাযোগ করুন।