পাসপোর্টে ভুল জন্মতারিখ থাকলে ভিসা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিমানবন্দরে সমস্যা হতে পারে। জেনে নিন কীভাবে দ্রুত ও সহজে বয়স সংশোধন করবেন।
পাসপোর্টে জন্মতারিখ পরিবর্তন করা একটি আইনি বিষয়। কোনো মিথ্যা তথ্য দিলে বা নথি জাল করলে পাসপোর্ট অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শুধুমাত্র প্রকৃত ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করুন।
পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধন করা যায় শুধুমাত্র নিচের ক্ষেত্রে:
পাসপোর্টের জন্মতারিখ NID-এর সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়। তাই আগে NID সংশোধন করুন, তারপর পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন করুন।
| কাগজপত্র | বিবরণ | অবস্থা |
|---|---|---|
| জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) | সংশোধিত NID-এর মূল কপি ও ফটোকপি | বাধ্যতামূলক |
| জন্ম নিবন্ধন সনদ | অনলাইনে যাচাইযোগ্য ডিজিটাল কপি | বাধ্যতামূলক |
| পুরনো পাসপোর্ট | বিদ্যমান পাসপোর্টের মূল কপি (সংশোধন যদি পুরনো পাসপোর্টে করতে হয়) | বাধ্যতামূলক |
| SSC সার্টিফিকেট | শিক্ষাগত প্রমাণ হিসেবে বয়স যাচাইয়ে ব্যবহৃত | বাধ্যতামূলক |
| আদালতের হলফনামা | জন্মতারিখ পরিবর্তনের কারণ বর্ণনা করে নোটারি করা হলফনামা | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
| হাসপাতাল জন্ম সনদ | হাসপাতালে জন্ম হলে সেই সনদ | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
| পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট | প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট করলে | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
পাসপোর্টে বয়স সংশোধনের আগে আপনার NID কার্ডে সঠিক জন্মতারিখ আছে কিনা নিশ্চিত করুন। NID-এ ভুল থাকলে আগে NID সংশোধন করুন।
epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে "পাসপোর্ট তথ্য সংশোধন" অপশনে ক্লিক করুন। নতুন সঠিক জন্মতারিখ দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন।
স্থানীয় কোর্টে বা নোটারি পাবলিকের কাছে গিয়ে জন্মতারিখ সংশোধনের কারণ উল্লেখ করে হলফনামা তৈরি করুন। এটি অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক।
অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে বা নির্ধারিত ব্যাংকে সংশোধন ফি জমা দিন। ফি ধরন অনুযায়ী ভিন্ন (নিচে দেখুন)।
অনলাইন আবেদনের পর নিকটস্থ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সকল মূল কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হন।
পাসপোর্ট অফিসে আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া হবে। নতুন পাসপোর্ট তৈরি করা হবে (পুরনোটি বাতিল হয়ে যাবে)।
আবেদন জমা দেওয়ার পর epassport.gov.bd-এ "পাসপোর্ট স্ট্যাটাস" চেক করুন বা ১৬৪২৮ নম্বরে ফোন করুন।
অনলাইনে আগে আবেদন করুন ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন, তারপর অফিসে যান। এতে সময় ও হয়রানি দুটোই কমে। আবেদনের প্রিন্টআউট ও সব কাগজ দুই কপি করে নিয়ে যাবেন।
বিদেশে থাকলে নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে যোগাযোগ করুন। তারা পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশে পাঠিয়ে প্রক্রিয়া করে।
দূতাবাস আবেদন গ্রহণ করার পর সাধারণত ৩-৪ মাসের মধ্যে নতুন পাসপোর্ট পৌঁছে দেয়। তবে দেশে ফিরে আবেদন করলে দ্রুততর হয়।