ড্রাইভিং লাইসেন্স কেন দরকার?

বাংলাদেশে মোটরযান আইন ১৯৮৩ অনুযায়ী, সরকারি সড়কে কোনো মোটরযান চালাতে হলে অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবেও কাজ করে। বিদেশ ভ্রমণে, চাকরির আবেদনে এবং বিভিন্ন সরকারি কাজে এটি ব্যবহার করা যায়।

লাইসেন্সের ধরন

পেশাদার লাইসেন্স

পেশাদার চালক হিসেবে ভাড়ায় গাড়ি চালানোর জন্য। ট্রাক, বাস, সিএনজি, ট্যাক্সি চালকদের এই লাইসেন্স প্রয়োজন। ন্যূনতম বয়স ২০ বছর।

অপেশাদার লাইসেন্স

ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল) নিজে চালানোর জন্য। ভাড়ায় চালানো যাবে না। ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর।

আবেদনের যোগ্যতা

বয়স: অপেশাদার ১৮+ বছর, পেশাদার ২০+ বছর

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস (পেশাদার)

স্বাস্থ্য: শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক

জাতীয়তা: বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে

NID: বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে

প্রশিক্ষণ: অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ (পেশাদারের জন্য)

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) — মূলকপি ও ফটোকপি
সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি — ৩ কপি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)
রক্তের গ্রুপ সনদ (রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক)
শারীরিক সুস্থতার সনদ (রেজিস্টার্ড চিকিৎসক)
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (পেশাদার আবেদনকারীর ক্ষেত্রে)
ড্রাইভিং স্কুলের প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট (পেশাদার)
টিআইএন সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
নির্ধারিত আবেদন ফর্ম (BRTA ওয়েবসাইট বা অফিস থেকে)

BRTA-তে আবেদন প্রক্রিয়া (ধাপে ধাপে)

১

অনলাইন নিবন্ধন

BRTA-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (brta.gov.bd) বা BRTC DL সেবা পোর্টালে গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন এবং আবেদন ফর্ম পূরণ করুন।

২

ফি জমা

নির্ধারিত পরীক্ষা ফি অনলাইনে বা মনোনীত ব্যাংকে জমা দিন। পেমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করুন।

৩

BRTA অফিসে যোগাযোগ

নিকটতম BRTA সার্কেল অফিসে সকল মূল কাগজপত্র নিয়ে যান। আবেদন ফর্ম জমা দিন ও পরীক্ষার তারিখ নিন।

৪

লিখিত পরীক্ষা

ট্রাফিক আইন ও রাস্তার চিহ্ন সম্পর্কে ৩০টি MCQ প্রশ্নের লিখিত পরীক্ষা দিন। ন্যূনতম ২১ পেলে পাস।

৫

মাঠ পরীক্ষা (ড্রাইভিং টেস্ট)

BRTA মাঠে নির্ধারিত রুটে গাড়ি চালিয়ে দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। পরীক্ষকের নির্দেশ মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

৬

বায়োমেট্রিক ও ছবি

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে BRTA অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, চোখ স্ক্যান) ও ছবি দিন।

৭

লাইসেন্স সংগ্রহ

যাচাই-বাছাই শেষে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুত হবে। SMS বা ওয়েবসাইটে স্ট্যাটাস চেক করে সংগ্রহ করুন।

পরীক্ষা পদ্ধতি

পরীক্ষার ধরনবিষয়মোট নম্বরপাস নম্বর
লিখিত পরীক্ষাট্রাফিক আইন, রোড সাইন, নিরাপত্তা বিধি৩০২১
মাঠ পরীক্ষাগাড়ি চালানোর দক্ষতা, পার্কিং, টার্নিং১০০৭০
চক্ষু পরীক্ষাদৃষ্টিশক্তি যাচাই—যোগ্য

লিখিত পরীক্ষায় ফেল করলে ৭ দিন পর, মাঠ পরীক্ষায় ফেল করলে ১৪ দিন পর পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া যাবে। পুনঃপরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য।

নবায়ন পদ্ধতি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সাধারণত ৩ বা ৫ বছরের জন্য দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করা উচিত।

১
BRTA ওয়েবসাইটে লগিন করে নবায়নের আবেদন করুন
২
নবায়ন ফি পরিশোধ করুন (অনলাইন বা ব্যাংকে)
৩
BRTA অফিসে পুরনো লাইসেন্স ও কাগজপত্র জমা দিন
৪
স্বাস্থ্য পরীক্ষা (৪০+ বছর বয়সীদের জন্য বাধ্যতামূলক)
৫
নতুন স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স সংগ্রহ করুন

মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে প্রতি বছরের জন্য ৫০ টাকা বিলম্ব ফি যোগ হয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

লাইসেন্স পেতে কতদিন সময় লাগে?
আবেদন জমা থেকে শুরু করে লাইসেন্স হাতে পেতে সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ কার্যদিবস সময় লাগে। তবে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুবিধা পাওয়া যায়।
লার্নার লাইসেন্স কি আলাদাভাবে নিতে হয়?
বর্তমান নিয়মে লার্নার পারমিট ও পূর্ণ লাইসেন্স একই আবেদনে প্রক্রিয়া করা হয়। তবে মাঠ পরীক্ষায় পাসের আগে শুধু প্রশিক্ষকের সাথে গাড়ি চালানো যাবে।
কোথায় কোথায় BRTA সার্কেল অফিস আছে?
সারা বাংলাদেশে BRTA-র ৬৮টিরও বেশি সার্কেল অফিস রয়েছে। ঢাকায় মিরপুর, মতিঝিল, যাত্রাবাড়িসহ একাধিক অফিসে আবেদন করা যায়। BRTA ওয়েবসাইটে নিকটতম অফিসের তথ্য পাওয়া যাবে।
লাইসেন্স হারিয়ে গেলে কী করব?
লাইসেন্স হারিয়ে গেলে নিকটতম থানায় জিডি করুন এবং জিডির কপি নিয়ে BRTA অফিসে ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন। ডুপ্লিকেট ফি ও ফর্ম পূরণ করতে হবে।
বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স কি বাংলাদেশে ব্যবহার করা যায়?
আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (IDP) দিয়ে সীমিত সময়ের জন্য বাংলাদেশে গাড়ি চালানো যায়। দীর্ঘ সময়ের জন্য বাংলাদেশি লাইসেন্স করতে হবে। বিদেশি লাইসেন্সের ভিত্তিতে মাঠ পরীক্ষা মওকুফ পাওয়া যেতে পারে।