TIN কী?
TIN (Taxpayer Identification Number) হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কর্তৃক প্রদত্ত একটি ১২ সংখ্যার অনন্য করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর। এই নম্বরটি প্রতিটি করদাতার পরিচয় বহন করে এবং কর সংক্রান্ত সকল কাজে ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ অনুযায়ী নির্দিষ্ট আয়ের বেশি উপার্জনকারী সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য TIN নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
TIN কেন দরকার?
ব্যাংক লোন ও ক্রেডিট কার্ড
ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যবসা নিবন্ধন
আমদানি-রপ্তানি ও LC খোলা
জমি ক্রয়-বিক্রয় ও দলিল
সরকারি টেন্ডার ও চুক্তি
গাড়ি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অনলাইনে TIN নিবন্ধন (nbr.gov.bd)
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-টিআইএন পোর্টাল (etaxnbr.gov.bd) থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও তাৎক্ষণিকভাবে TIN নিবন্ধন করা যায়।
পোর্টালে প্রবেশ
etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে যান এবং "TIN নিবন্ধন করুন" অথবা "Register" বাটনে ক্লিক করুন।
করদাতার ধরন নির্বাচন
ব্যক্তি (Individual), কোম্পানি (Company), বা অন্যান্য — সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নিন।
NID যাচাই
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে NID যাচাই করুন। তথ্য নির্ভুল থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম ও ঠিকানা পূরণ হয়ে যাবে।
তথ্য পূরণ
মোবাইল নম্বর, ইমেইল, পেশা, আয়ের উৎস ও ঠিকানার তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
OTP যাচাই
নিবন্ধিত মোবাইলে পাঠানো OTP কোড দিয়ে মোবাইল নম্বর যাচাই করুন।
নিবন্ধন সম্পন্ন
সকল তথ্য সঠিক হলে "Submit" বাটন চাপুন। তাৎক্ষণিকভাবে ১২ সংখ্যার TIN নম্বর জেনারেট হবে।
TIN সার্টিফিকেট ডাউনলোড
নিবন্ধন সফল হলে সাথে সাথে TIN সার্টিফিকেট PDF আকারে ডাউনলোড করুন এবং প্রিন্ট করুন।
TIN সার্টিফিকেট ডাউনলোড
পরবর্তীতে TIN সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে হলে:
TIN সার্টিফিকেটের সফটকপি (PDF) সকল সরকারি ও বেসরকারি কাজে গ্রহণযোগ্য। আলাদা সত্যায়নের প্রয়োজন নেই।
TIN রিটার্ন দাখিল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য
TIN নিবন্ধন করলে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা সাধারণত ৩০ নভেম্বর।
শূন্য রিটার্ন
আয় না থাকলেও শূন্য রিটার্ন (Zero Return) দাখিল করা বাধ্যতামূলক। TIN থাকলে এই দায়িত্ব এড়ানো যাবে না।
অনলাইন রিটার্ন
etaxnbr.gov.bd পোর্টালে অনলাইনেও রিটার্ন দাখিল করা যায়। অনলাইনে দাখিল করলে ইনস্ট্যান্ট স্বীকৃতি পাওয়া যায়।
করমুক্ত সীমা ২০২৬
ব্যক্তি করদাতার বার্ষিক করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,৫০,০০০ টাকা। মহিলা ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য ভিন্ন সীমা।
বিলম্ব জরিমানা
নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দাখিল করলে মাসিক ২% হারে জরিমানা প্রযোজ্য।