সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বাংলাদেশে বর্তমানে ই-পাসপোর্ট (MRP বা e-Passport) দেওয়া হচ্ছে। এটি বায়োমেট্রিক তথ্যসহ একটি স্মার্ট চিপযুক্ত পাসপোর্ট যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ই-পাসপোর্টের জন্য সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন করা যায় এবং নির্ধারিত কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক দিতে যেতে হয়।
কতদিনে পাবেন: Regular-এ সাধারণত ২১ কার্যদিবস, Urgent-এ ৭ কার্যদিবস এবং Super Urgent-এ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পাওয়া যায়।
ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হয় epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে। পুরাতন কাগজের আবেদন ফর্ম এখন আর ব্যবহৃত হয় না।
ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া
১
epassport.gov.bd-তে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন
প্রথমে epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে যান। "Apply for ePassport" বাটনে ক্লিক করে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID), জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করুন।
প্রয়োজন: NID নম্বর, সক্রিয় মোবাইল নম্বর ও ইমেইল অ্যাড্রেস
২
অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
লগইন করে "New Application" বাটনে ক্লিক করুন। ব্যক্তিগত তথ্য, পেশা, ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য পূরণ করুন। পাসপোর্টের ধরন বেছে নিন — পেজ সংখ্যা (৪৮/৬৪), মেয়াদ (৫/১০ বছর) ও ডেলিভারির ধরন।
সতর্কতা: তথ্য পূরণে NID ও জন্ম নিবন্ধনের সাথে মিল রাখুন
৩
পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করুন
আবেদন ফর্ম সংরক্ষণের পর অনলাইনে ফি পরিশোধ করুন। Sonali Bank, বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং বা ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা যায়। পেমেন্টের পর ট্রানজেকশন আইডি সংরক্ষণ করুন।
ফি: ৩,৪৫০৳ থেকে শুরু (৪৮ পেজ, ৫ বছর, Regular)
৪
Appointment বুক করুন
ফি পরিশোধের পর নিকটতম পাসপোর্ট অফিস ও সুবিধাজনক তারিখ বেছে নিন। ঢাকায় আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস আছে।
Appointment কনফার্মেশন SMS ও ইমেইলে পাবেন
৫
পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক দিন
নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে যান। সব মূল কাগজপত্র নিয়ে যান। অফিসারের সামনে আঙুলের ছাপ (Fingerprint) ও ছবি তোলা হবে। একটি Token বা Acknowledgement Slip দেওয়া হবে।
সময়মতো উপস্থিত থাকুন — Appointment মিস করলে নতুন Appointment নিতে হবে
৬
অনলাইনে স্ট্যাটাস ট্র্যাক করুন
epassport.gov.bd-তে লগইন করে আবেদনের অগ্রগতি ট্র্যাক করুন। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে SMS ও ইমেইলে জানানো হবে।
৭
পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন
পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে পাসপোর্ট অফিস থেকে সরাসরি অথবা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডেলিভারি পান। Acknowledgement Slip ও NID সাথে নিয়ে যান।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিচের কাগজপত্রগুলোর মূল কপি ও ফটোকপি উভয়ই নিয়ে যাওয়া উচিত।
সকলের জন্য বাধ্যতামূলক
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
মূল ও ফটোকপি
জন্ম নিবন্ধন সনদ
মূল ও ফটোকপি
পুরানো পাসপোর্ট
থাকলে — নবায়নের ক্ষেত্রে
ফি পরিশোধের রসিদ
অনলাইন পেমেন্ট কনফার্মেশন
Appointment কনফার্মেশন
প্রিন্ট বা মোবাইলে দেখানো
সদ্য তোলা ছবি
সাদা পটভূমি, ৩.৫×৪.৫ সেমি
শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজ
বাবা-মায়ের NID ও পাসপোর্ট
উভয়ের ফটোকপি
স্কুল সার্টিফিকেট বা Bonafide
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে
গুরুত্বপূর্ণ: পাসপোর্ট, NID ও জন্ম নিবন্ধনে নাম ও জন্মতারিখ একেবারে মিলতে হবে। কোনো পার্থক্য থাকলে আগে সংশোধন করুন।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- পাসপোর্টের ছবিতে চশমা পরা যাবে না, মাথা ঢাকা থাকলে ধর্মীয় কারণে ছাড় আছে।
- অনলাইনে আবেদনের সময় ইংরেজিতে নাম লেখার সময় NID-এর সাথে মিল রাখুন।
- Appointment-এর দিন সকালে যাওয়া ভালো — ভিড় কম থাকে।
- বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময় পরিষ্কার হাতের আঙুল রাখুন, নখ ছোট রাখুন।
- পুরানো পাসপোর্ট থাকলে অবশ্যই নিয়ে যান — নবায়নের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক।
- পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস আগে নবায়নের আবেদন করুন।
- অপ্রয়োজনীয় Urgent বা Super Urgent এড়িয়ে চলুন — ফি অনেক বেশি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
পাসপোর্টের জন্য কি অফিসে না গেলেও হয়?
না, অফিসে একবার যেতেই হবে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ ও ছবি) দেওয়ার জন্য। তবে আবেদন ও ফি পরিশোধ সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায়।
অনলাইনে আবেদনে ভুল হলে কি সংশোধন করা যায়?
ফি পরিশোধের আগে পর্যন্ত তথ্য সংশোধন করা যায়। ফি পরিশোধের পর সংশোধন করতে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
NID না থাকলে কি পাসপোর্ট করা যাবে?
১৮ বছরের বেশি বয়সীদের NID বাধ্যতামূলক। ১৮ বছরের কমদের বাবা বা মায়ের NID ও পাসপোর্ট দিয়ে আবেদন করা যায়।
ই-পাসপোর্টে কি কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে কি করবো?
পাসপোর্ট পাওয়ার পর প্রথমেই সব তথ্য যাচাই করুন। ত্রুটি থাকলে সাথে সাথে পাসপোর্ট অফিসে জানান। সরকারি ভুলে পুনরায় ছাপানো বিনামূল্যে হয়।
দুটি পাসপোর্ট একসাথে রাখা যাবে কি?
সাধারণত না। তবে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় পাসপোর্টের অনুমতি পাওয়া যায় — এজন্য পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করতে হয়।